ঢাকা , সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ , ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খানসামায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ


আপডেট সময় : ২০২৬-০১-০৩ ১৪:২১:০১
খানসামায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ খানসামায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ
খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
 
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার বালাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। 
 
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর
লিখিত অভিযোগ করেছেন সচেতন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।
 
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সহকারী শিক্ষক মোঃ কামরুল হাসান দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করে আসছেন। তিনি তার কয়েকজন অনুসারী শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে নিয়মিতভাবে বিদ্যালয় ত্যাগ করে বোর্ডের হাট এলাকার চায়ের দোকানে আড্ডায় লিপ্ত থাকেন। এছাড়া সহকারী শিক্ষকদের আন্দোলনের অজুহাতে তার নেতৃত্বে একাধিকবার শ্রেণি পাঠদান বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করা হয়, যার ফলে বার্ষিক পরীক্ষার আগমুহূর্তে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাপক ক্ষতি হয়।
 
আরও অভিযোগ রয়েছে, গত  ডিসেম্বর মাসে বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হলে তিনি কয়েকজন শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষা বর্জন করেন। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম মানসিক বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজ উদ্যোগে পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করলে সহকারী শিক্ষক মোঃ কামরুল হাসান ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন, বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
 
এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একজন সৎ, দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিদ্যালয়ের সুনাম ধরে রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তার প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টি ধারাবাহিকভাবে উন্নতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় একজন সহকারী শিক্ষকের এ ধরনের আচরণে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
 
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার হুমায়ুন কবির তালুকদার জানান, “আমি এখনও বিষয়টির সঙ্গে অবগত নই। অভিযোগ যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” অপরদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান সরকার বলেন, “অভিযোগটি আমার নজরে এসেছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক করতে দ্রুত তদন্ত ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিশুদের স্বার্থ রক্ষা আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।”
 
সচেতন অভিভাবকরা জানান, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। তারা অবিলম্বে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ